কেমোথেরাপির সাইডইফেক্ট
![]() |
| কেমোথেরাপির সাইডইফেক্ট |
আসসালামু আলাইকুম আজকে আমি ক্যান্সার চিকিৎসায় যেটা হয় , সেটা হচ্ছে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় ।এটা আমরা সবাই জানি ।এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা আছে। তাই আসুন আজ জানি কি কারানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় এবং কি করতে হয়।প্রথমে জানি কেমথ্রেপির পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি?
কিভাবে আপনি সমাধান করবেন, পাশাপাশি গুলো কেন হয়। এগুলো নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। যখন কেমোথেরাপি দেয়া হয়,তখন আমাদের শরীরে ঢুকে ক্যান্সার সেল কে ধ্বংস করার পাশাপাশি কিন্তু স্বাভাবিক কোষগুলোকে ধ্বংস করে। কিন্তু যদিও ক্যান্সার সেল যে পরিমান ধ্বংস করে ,তার চেয়ে স্বাভাবিক কোষ ধ্বংস করার হার অনেক কম ।সেজন্য এই কোষ ধ্বংস হওয়া জন্য ,এই সাইড ইফেক্ট গুলো দেখা যায় ।কিন্তু মজার বিষয়, হোল এটা বেশী দিন স্তায়ী হয় না।
কোনটাই কিন্তু হাই স্থায়ী নয় এগুলো সামরিক যখনই ট্রিটমেন্ট শেষ হয়ে যাবে কেমোথেরাপি বন্ধ হয়ে যাবে আস্তে আস্তে কোষগুলো আবার রিভার্স করে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বা আগের মত হয়ে যাবে ।আরেকটা জিনিস জেনে রাখা ভালো , যে সবার একই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। আমারা প্রত্যেক ব্যক্তি ইন্ডিভিজুয়াল । আমরা প্রত্যেকটা মানুষ individual's পার্সোনাল আলাদা ।একজন থেকে আরেকজনে আলাদা আমাদের শরীরের গঠন ,শরিলের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আলাদা হয়। অনেক আছে কেমোথেরাপি নেয়ার পরও তার শরীরকে ফিট থাকে । এগুলোর উপর নির্ভর করে তার শরিলের উপর কার পার্শ্বপ্রতিকৃয়া বেশি হবে বা কার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হবে। তবে বেশির ভাগ মানুশের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।তাই ভয় পাওয়ার কিছু নাই।
ক্ষুধামন্দা দেখা যায় বা খাওয়ার রুচি থাকে না।khaoyar ruchi thake na.
মেডিকেল বিশেষজ্ঞ ডঃ কামাল বলেন ,এক্ষেত্রে কিন্তু রুচি বাড়ানোর জন্য ওষুধ দেয়া যেতে পারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এখন আমাদের বাজারে আছে যেগুলো রুচির পরিবর্তন করে অথবা আমরা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করে নিতে পারি।এই টাইমটা আমাদের যে খাবারটা ভালো লাগে সেই খাবারটাই আমারা খেতে পারি । কিন্তু আমাদের যারা আসে ,তারা অনেকেই বলে্যে আমি ভাত খেতে পারি না।তিনি বলেন, আমরা বাঙালি আমরা ভাবি যে আমরা ভাত খেতে পারি না বলে আমাদের রুচি নাই আর সবাই খেতে পারে ।্ডঃ কামাল বলেন, ভাত না খেলেও চলবে অন্য খাবার খেয়ে নে্ন।আপনার যেটা ভালো লাগে শেটা খান। এভাবে কিন্তু রুচিতা ধরে রাখা সম্ভব ক্ষুধামন্দা দেব রুচির পরিবর্তন ।
যারা একদম খেতে পারেন না। zara ekebari khete paren na.
এর পরে আসে ক্ষুধামন্দার একদমই খেতে পারছি না সে ক্ষেত্রে আগেই বললাম একদমই যদি খেতে না পারে এটা হতে পারে ক্যান্সার থেরাপিতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াবে এবং ওষুধ তার রুচি বাড়াতে অথবা রুচিবর্ধক হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন দে তারপরে মেগেস্ট্রল নামে কোন ওষুধ আছে সেই ওষুধগুলো দিয়েছে কিন্তু ক্ষুধা বেড়ে যায়।
বমি বমি ভাব হলে কি করবেন?
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া প্রত্যেকটা কেমোথেরাপির এটা একটা কমন সাইডইফেক্ট ।বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে কিন্তু সবসময় আপনার চিকিৎসক কিন্তু কেমোথেরাপির পাশাপাশি অথবা চিকিৎসা আগে এবং পরে বমি বন্ধ হওয়ার জন্য অনেক অনেক ভালো ওষুধ আমাদের দেশে পাওয়া যায় সেগুলো দেয়া হয়ে থাকে এবং বেশিরভাগ রোগী বমি বা বমি ভাব টা খুব সহজেই লাভ করা ।
মুখ ঘা হলে কি করবেন?
তারপরে আসি মুখে ঘা হওয়া। কেমোথেরাপি দিলে কিন্তু আমাদের মুখে ঘা হওয়া অথবা ডায়রিয়া হয়। মুখে ঘা হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মাউথওয়াশ আছে যেগুলো মুখে ঘা কে রোধ করে এবং বিভিন্ন ধরনের আমরা খাবার তখন এডভাইস করি ,এমন একটি নরম খাবার সহজপাচ্য খাবার এগুলো মুখে ঘা হলে যেন খাওয়া যায় এবং মুখের ঘা থেকে রক্ষা করার জন্য ওরাল হাইজিন মেন্টেন করলেই না থেকে অনেকটা ভালো থাকা যায় ।
মাথার চুল উঠে গেলে
চুল পরা মহিলাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে আমি বলব এটা একটা সকিং ব্যাপার সব মাথার চুল পড়ে.একটা জিনিস আপনার জেনে রাখবেন সব কেমোথেরাপিতে কিন্তু চুল পড়ে না ।তবে হ্যাঁ বেশিরভাগ কেমোথেরাপি দিলে চুল পড়ে এটা কিন্তু একদম সামরিক, আপনার চুলটা পড়ে যাবে ঠিকই কিন্তু এরপরে আবার যখন কেমোথেরাপি শেষ হয়ে যাবে আপনার চিকিৎসা শেষ হয়ে যাবে আপনার 26 মাসের মধ্যে চুলটা একদম আগের মত হয়ে যাবে এটা একদম গ্যারান্টি। সেখানে আপনি ভয় পাবেন না চুল আপনার অবশ্যই আবার গজাবে।
নখের রং পরিবর্তন
তারপর আবার নখের পরিবর্তন চামড়া থেকে কিছু কালো কালো দাগ হতে পারে লোকটা কালো হয়ে যায়। কিছু কিছু কেমোথেরাপিতে এগুলো সামরিক কিন্তু কখনোই পড়ে যাবে না ।অনেকে আমরা ভ্রান্ত ধারণা করে চূর্ণ-বিচূর্ণ ভেংগে যাবে ।আমাদের আপনা এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই,আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে এজন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না তেমনি আবার আগের মত হয়ে যাবে ।
ডায়রিয়া রোগ হওয়া ।
এরপরে আমাদের কাছে যেটা নিয়ে আসে সেটা হচ্ছে ডায়রিয়া ।ডায়রিয়া হওয়ার কারণে , আমরা যেটা করি খুব ভয় পাই এবং দূর্বল হয়ে পরি। ডায়রিয়া.সবারই হয় না ,যাদের প্রকৃত কিছু কেমোথেরাপিতে ড্রাইভের প্রবণতা বেশি সে ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু প্রিভেনশন হিসাবে কিছু ওষুধ আগে থেকেই ম ওষধ দিয়ে রাখি ।যেন ডায়রিয়া হওয়ার প্রোবায়োটিক আছে । কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে , সে ক্ষেত্রে আমরা কিছু খাদ্যাভাসের পরিবর্তন বলি এটা হাই ফাইবার যুক্ত খাবার।এছারাও আমি কিছু অসুধ ব্যবহার করতে বলি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য খুব ভালো ঔষধ এবং ভালো রিমেডি বাজারে পাওয়া যায় সুতরাং এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই ।
জ্বর হলে কি করবেন?jor hole ki korben
ইনফেকশন অথবা জ্বর কেমোথেরাপি পেলে অনেক সময় আমাদের শরীরের রক্তের কণিকা কমে যায় বিশেষ করে হোয়াইট ব্লাড সেল বা আমরা বলি রক্তকণিকা। এটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সাইডিফেক বলি ।জ্বর এটাও স্বাভাবিক ব্যাপার, সামান্য ওষুধ খেলে ঠীক হোয়ে ্যায়।
রক্ত শূর্নতা হওয়া ।
শ্বেত রক্তকণিকা বা ডব্লিউবিসি কমে যাচ্ছে যেটা আমরা নিউট্রোপেনিয়া বলি।সে ক্ষেত্রে আমরা প্রিভেনশন করতে পারি ।জাদের কমে যায় একবার তাতে আগে থেকেই আমরা কলোনি স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর কিছু ঔষধ আছে যেটা চামড়ার নিচে ইনসুলিন এর মত আমরা ব্যবহার করি তাতে কিন্তু খুব ভালোমতোই আমরা ভাল করতে পারি ।জ্বর হলে আমরা সাথে সাথে এন্টিবায়োটিক রক্তশূন্যতা আরেকটা সাইডিফেক কিছু কিছু মানুষের রক্তশূন্যতা দেখা দেয় বিশেষ করে যাদের হাড্ডিতে ক্যান্সার ছড়িয়ে যায় অথবা white-space ক্যান্সার থাকে। সে ক্ষেত্রে আমরা মাঝে মধ্যে রক্ত দিতে হতে পারে ব্লাড ট্রান্সফিউশন ।
আমরাপালি অবসাদ এবং বিষন্নতা
আমরাপালি অবসাদ এবং বিষন্নতা একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্যান্সার সাইডইফেক্ট । কেমোথেরাপি সাইড ইফেক্ট এবং অবসাদ বিষন্নতা কিছু কিছু কেমোথেরাপিতে খুব বেশি হয়। আর যারা বয়স বেশি তাদেরকে খুব বেশি হয,সে ক্ষেত্রে আমরা সাইকোলজিকাল সাপোর্ট এবং কিছু এন্টিসাইকোটিক ড্রাগ এবং নির্দেশনা কিছু পরিবর্তন করে এটা অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব।
শরীরের ব্যথা.
শরীরের ব্যথা ,পায়ের গিরায় ব্যথা এগুলোতে কেমোথেরাপি সাইড এক্ষেত্রে , পেইন কিলার ব্যবহার করা হয় এগুলো নিরূপণ করা যায় ।
শেষমেষ এসে যেটা হয় সেটা হচ্ছে হাত-পা ঝি ঝি করা অথবা হাত পা অবশ অবশ অনুভুতির ,আমাদের হাত-পা বোধ শক্তি কমে যাওয়া ।এটাকে বলা হয় নিউরোপ্যাথি নিউরোপ্যাথি কিছু কিছু বিশেষ কেমোথেরাপিতে হয়ে থাকে ।বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস থাকে এবং ইউরোপীয় ভালো চিকিৎসা আছে ।শীতকালে বেরে যায় ,তাই হাত পায়ের মোজা ব্যবহার করা এবং কিছু ঔষধ খুব ভালো ঔষধ এখন বাজারে আছে যেগুলো ব্যবহার করলে নিউরোপ্যাথি অনেকাংশে কমে যায় ।
সবগুলো সাইডইফেক্ট ।চিকিৎসা পোরে আবার আগের মত হয়ে যাবে। সুতরাং এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে আপনারা বিচলিত হবেন না এগুলো খুব ভালোমতোই আমরা এখন চিকিৎসা দিতে পারি এবং আপনি ভাল হবেন এটা নিশ্চিত। ধন্যবাদ.
